‘ড্যাশ ডায়েট’, হাইপারটেনশন এবং রক্তচাপ কমাতে এটাই এখন দাওয়াই

হাইপারটেনশন এবং উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য অব্যর্থ ‘ড্যাশ ডায়েট’। হাই ব্লাড প্রেশার এবং হাইপারটেনশনের রোগীদের জন্য এখনই এই ডায়েটেরই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (এনআইএইচ)-এর অংশ ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট-এর তরফে হাইপারটেনশনের রোগীদের জন্য এই ড্যাশ ডায়েটের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের কথায় ঠিকমতো ড্যাশ ডায়েট ফলো করলে মাত্র দু’সপ্তাহেই কন্ট্রোল হবে রক্তচাপ।

কী এই ড্যাশ ডায়েট? এককথায় বলতে গেলে এই ড্যাশ ডায়েটের মূল লক্ষ্য খাবার মেনুতে ফ্যাট, সোডিয়াম এবং মিষ্টিজাতীয় জিনিস কম করা। লো-ফ্যাট এবং কম মিষ্টিজাত খাবারদাবার এই ড্যাশ ডায়েটের মূল উপাদান।

  • সাধারণত প্রচুর পরিমাণ ফল, নানা ধরনের শাকসবজি, দানাশস্য এবং লো-ফ্যাট দুগ্ধজাত দ্রব্য দিয়েই তৈরি হয় ড্যাশ ডায়েট। কোনওভাবে শরীরে যাতে অতিরিক্ত ফ্যাট প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে নজর রাখা এই ড্যাশ ডায়েটের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়াও চিনিজাতীয় খাবারদাবার এবং বেশি মিষ্টি ফলের ক্ষেত্রে এই ডায়েটে অনেক নিষেধাজ্ঞা থাকে।
  • মাছ, মাংস, ডিম, বাদাম—-সব ধরনের প্রোটিন জাতীয় খাবারও থাকে এই ড্যাশ ডায়েটে। তবে পরিমিত পরিমাণে। আর দুগ্ধজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে সেটা দুধ হোক বা অন্য কিছু তা লো-ফ্যাট বা নন-ফ্যাট হলে সবচেয়ে ভালো। রেড মিট বা খাসির মাংসের ক্ষেত্রেও এই ডায়েটে নিষেধাজ্ঞা থাকে। ব্লাড প্রেশার কন্ট্রোলে রাখার জন্য রেড মিট একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। তবে কালেভদ্রে এক-আধবার খাওয়া যাতেই পারে। কিন্তু সেটাও ভীষণ পরিমিত ভাবে।
  • ড্যাশ ডায়েটের ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যেহেতু এটা ব্লাড প্রেশার কন্ট্রোল করার জন্য এবং হাইপারটেনশন কমানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অতএব যেসব খাবারে কোলেস্টোরল বাড়তে পারে কিংবা যে খাবারে অতিরিক্ত ফ্যাট থাকে, সেইসব বাদ দিতে হবে। মিষ্টি স্বাদের পানীয় যেমন কোল্ডড্রিঙ্কস বা ফ্রুট জুসের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এই ড্যাশ ডায়েটে।
  • ড্যাশ ডায়েটের ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণ ফলের সঙ্গে হোল গ্রেন ফুড খাওয়া যায়। এই হোল গ্রেন ফুডের তালিকায় রয়েছে বার্লি, ওটমিল, ব্রাউন রাইস, বাকহুইট, পপকর্ন ইত্যাদি। এছাড়াও যাতে প্রোটিনের ঘাটতি না হয় সে জন্য মাছ-মাংস-ডিম তিনটেই খাওয়া চলে।
  • মিষ্টিজাতীয় খাবারের পাশাপাশি সোডিয়াম অর্থাৎ নুন খাওয়ার ক্ষেত্রেও মাপকাঠি রয়েছে ড্যাশ ডায়েটে। তাই ক্যানজাত বা টিনজাত প্রসেসড ফুড একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। খাবার পাতে কাঁচা নুন খাওয়ার অভ্যেস অনেকেরই রয়েছে। সেটাও বেশ বিপজ্জনক। কারণ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনওভাবেই শরীরে অতিরিক্ত নুন পৌঁছলে চলবে না।
  • ড্যাশ ডায়েটে খাবার পাতে মূলত থাকে প্রচুর পরিমাণ ফল, শাকসবজি এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার। মিষ্টিজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ফ্যাট বা কোলেস্টোরল বাড়তে পারে এমন খাবার মেনু থেকে সরাসরি বাদ। দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি, ফল, বাদাম, হোল গ্রেন যাই খাওয়া হোক না কেন সবটাই যেন পরিমিত ভাবে খাওয়া হয়।

কখন কী খাবেন? চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনই ড্যাশ ডায়েট চালু করা উচিত নয়। কারণ যে ডায়েটে একজন বরাবর অভ্যস্ত হঠাৎ করে সবটা বদলে গেলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাতে হিতে বিপরীত হবে। শরীরে ঘাটতি হতে পারে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদানের। তাই জেনে রাখা দরকার ড্যাশ ডায়েট ফলো করলে কোন সময় কোন খাবারটা খাওয়া উচিত।

  • সাধারণ লাঞ্চ বা ডিনারে শাকসবজি খাওয়া উচিত। যখন একটু পেট ভরে খেতে হয় তখন মেনুতে থাকতে পারে নানা রকমের শাকসবজি। সুস্বাদু ভাবে রান্না করা হলে খেতেও ভালো লাগে। তবে সেক্ষেত্রে তেল-মশলার ব্যবহার যেন খুব কম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সেদ্ধ সবজির ক্ষেত্রে অল্প মাখন এবং গোলমরিচ ব্যবহার করলে তা বেশ সুস্বাদু লাগে খেতে। অথবা অল্প তেলে নড়াচড়া করে নেওয়া যেতে পারে শাকসবজি। সেক্ষেত্রে অল্প মাখন আর গোলমরিচ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে লো-ফ্যাট মাখন বা মার্জারিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • লাঞ্চ কিংবা ডিনারে প্রোটিন জাতীয় খাবার মাছ-মাংস-ডিম খাওয়া যেতে পারে।
  • স্ন্যাকসে রাখুন বাদাম, ফল কিংবা ড্রাইফ্রুটস। তবে বেশি মিষ্টিজাতীয় জিনিস না খাওয়াই ভাল।
  • স্বাদ বদলের জন্য দুধ কিংবা দুধজাত দ্রব্য যেমন দই কিংবা ছানা বা ইয়োগার্ট খাওয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে গোটা খাবার যেন ফ্যাট ফ্রি হয়। নিদেনপক্ষে লো-ফ্যাট দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়া প্রয়োজনীয়। আর চিনি একেবারেই নিষিদ্ধ। একস্ট্রা অ্যাডেড চিনি, নুন, ফ্যাট সবই ড্যাশ ডায়েটের উপকারিতা নষ্ট করে দেওয়া জন্য যথেষ্ট।
  • দিনে ৬ বার খাবেন। বারে বারে অল্প পরিমাণে খাবার খেলে তাড়াতাড়ি মেদ ঝরে। পাশাপাশি কন্ট্রোলে থাকে রক্তচাপ।তবে কোনও খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রেই আলাদা করে নুন খাওয়া চলবে না। তাহলে বেড়ে যেতে পারে সোডিয়ামের পরিমাণ। ফলে হাইপারটেনশনের সমস্যাও বাড়তে পারে।
Total Page Visits: 612 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Shares