তাপসের চেয়ে সম্পদ কম ইশরাকের

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপস। তার বার্ষিক আয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে অস্থাবর মোট সম্পত্তি মূল্য ১১৮ কোটি ৭৯ লাখ ২২ হাজার ৩২০ টাকা। মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ৭৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৮ টাকা। অতীতে দুটি মামলা থাকলে এ উচ্চ আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বার্ষিক আয় ৯ কোটি টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। স্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা। ইশরাকের ক্রেডিট কার্ড, স্বল্প মেয়াদি ঋণ মিলিয়ে দেনা টাকার পরিমাণ ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৪৩ টাকা। দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শেখ ফজলে নূর তাপস : আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস আইন পেশায় নিয়োজিত। তার বার্ষিক আয় ১১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। হলফনামায় এই প্রার্থীর আয়ের উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি খাত, বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া, ব্যবসায়, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত, শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক, চাকরি। শেখ ফজলে নূর তাপসের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে ২৬ কোটি তিন লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৯৭ লাখ টাকা রয়েছে। হলফনামায় বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণে নিজের নামে তিন হাজার ৭৫০ ইউ এস ডলার (তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা), স্ত্রীর নামে ৮৭০০ ইউ এস ডলার (সাত লাখ ৩৫ হাজার টাকা) উল্লেখ করা হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকার পরিমাণ এক কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে দুই কোটি ৫৭ লাখ টাকা জমা রয়েছে। বন্ড এবং বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার বাজারে নিজের ৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। এছাড়াও নিজের এবং স্ত্রীর কেনা বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি, লঞ্চ, স্টিমার, বিমান ও মোটরসাইকেল নিজের নামে এবং স্ত্রীর নামে ৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়াও নিজের নামে এক কোটি টাকার স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকার রয়েছে, স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার। শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তার স্ত্রীর ১০ লাখ টাকার ইলেকট্রিক সামগ্রী রয়েছে। এছাড়াও পরিবারের আসবাবপত্রের বিবরণীতে ১৭ লাখ টাকার আসবাবপত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের ও স্ত্রীর নামে অস্থাবর মোট সম্পত্তির মূল্য ১১৮ কোটি ৭৯ লাখ ২২ হাজার ৩২০ টাকা।

শেখ ফজলে নূর তাপসের স্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজের ও স্ত্রীর নামে ৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬২০ টাকা মূল্যের ১১২ শতাংশ কৃষি জমি, নিজের নামে ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫০ টাকার অকৃষি জমি এবং স্ত্রীর নামে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ২৪০ হাজার টাকার অকৃষি জমি। ৮ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ টাকার দালান ও আবাসিক ভবন। স্ত্রী এবং নিজের নামে চার কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার ৩২৫ টাকা মূল্যের বাড়ি/এপার্টমেন্ট। মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ৭৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৮ টাকা। কেউ টাকা পাওনা না থাকলেও বাড়ি ভাড়া বাবদ অগ্রিম নেওয়া ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৫০ টাকা ভাড়াটিয়াদের কাছে দেনা রয়েছেন। হলফনামায় কোনো ধরনের ব্যাংক লোন শেখ ফজলে নূর তাপসের নামে নেই বলে উল্লেখ করা হয়। এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুটি মামলা থাকলেও হাইকোর্ট বিভাগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ইশরাক হোসেন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত প্রার্থী হচ্ছেন ইশরাক হোসেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিভিন্ন খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৯ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৫০৯ টাকা। তার আয়ের উত্সগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যবসা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, চাকরি এবং অন্যান্য খাত। সাদেক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট লিমিটিড, বুড়িগঙ্গা ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, দিগন্ত প্রকৌশলী লিমিটেডের পরিচালক। ডায়নামিক স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার। এছাড়া ট্রান্স ও মিয়ানিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা, তার কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে তার জমাকৃত টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৩ টাকা, শেয়ারবাজারে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ ৪১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১ লাখ টাকার ইলেকট্রিক সামগ্রী এবং ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০০ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে এবং অন্যান্য বাবদ ২০ লাখ ২৪ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। হলফনামায় উল্লেখ করা অস্থাবর সম্পদে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার ৭২ টাকা।

ইশরাক হোসেনের স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩০ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের ৩৪.৫০ শতাংশ কৃষিজমি, ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ২৯.০৯ শতাংশ অকৃষি জমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এবং অ্যাপার্টমেন্ট মিলিয়ে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪ টাকার। তার মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৭৮ লাখ ৫১ হাজার ৫২৪ টাকা। হলফনামায় উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী ইশরাকের ক্রেডিট কার্ড, স্বল্পমেয়াদি ঋণ মিলিয়ে দেনার পরিমাণ ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৪৩ টাকা। এছাড়া কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তার কোনো ধরনের ঋণ নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন : জাতীয় পার্টি-জাপা সমর্থিত প্রার্থী হচ্ছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা নেই। তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩ হাজার ৪৩ টাকা। আয়ের উৎস বাড়িভাড়া, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ভাড়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার কাছে নগদ রয়েছে ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পরিবহন বাবদ ১৭ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র ও অন্যান্য বিমায় রয়েছে ৭০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৯ টাকা। এই হিসাবে মোট অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮৯ টাকা। স্থাবর কোনো সম্পদের হিসাব হলফনামার বিবরণীতে নেই। তবে তিন ব্যাংকে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৭ হাজার ৬০১ টাকার ঋণ রয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে ন্যাশনাল ব্যাংকে আরো ২ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।

Total Page Visits: 285 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Shares