মাল্যভূষিত, হাস্যোজ্জ্বল, সানগ্লাস পরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

মার্ক গেনকে দেওয়া নিজের স্বাক্ষরিত বঙ্গবন্ধুর ছবি। ১৪ জুলাই ১৯৬৯। সৌজন্যে: দ্য টমাস ফিশার রেয়ার বুক লাইব্রেরি, টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়।

মাল্যভূষিত। হাস্যোজ্জ্বল। সানগ্লাস পরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এ রকম এক বিরল আলোকচিত্র পাওয়া গেছে কানাডীয় সাংবাদিক মার্ক গেনের দান করা দলিলপত্র থেকে। মার্ক গেন টাইম ও নিউজউইক–এর সাবেক প্রদায়ক সম্পাদক।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন টরন্টো ডেইলি স্টার–এর হংকংভিত্তিক এশীয় ব্যুরো প্রতিনিধি হিসেবে।

১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বিরল ছবিটি স্ক্যান করে প্রথম আলোকে পাঠিয়েছেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের টমাস ফিশার রেয়ার বুক লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক জন শুজমিথ। ছবির বাঁ প্রান্তে ঝরনা কলমে সবুজ কালিতে ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষর: শেখ মুজিবুর রহমান, ১৪ জুলাই ১৯৬৯।

গণ–অভ্যুত্থানে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খানের পতন ঘটে। ইয়াহিয়া খান মসনদে। সবাই সাধারণ নির্বাচনের অপেক্ষায়। ২৮ জুলাই ১৯৬৯ ইয়াহিয়া ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। এমন এক প্রেক্ষাপটে ১৪ জুলাই ১৯৬৯ মার্ক গেন ধানমন্ডির বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎকারটি নেন।

সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু মার্ক গেনকে ‘প্রকাশ না করার শর্তে’ যা বলেছিলেন, তা ছিল কার্যত স্বাধীন বাংলাদেশের এক রূপকল্প। বঙ্গবন্ধু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে ‘দেশ’ বলে উল্লেখ করে বলেছিলেন, পাকিস্তানিদের ২১ বছরের শোষণ ব্রিটিশদের ২০০ বছরের শোষণকে ছাড়িয়ে গেছে। কেবল সেনাবাহিনী ও বিদেশি সাহায্যের জোরেই তারা এটা পারছে। কিন্তু বুলেট দিয়েও সাত কোটি বাঙালিকে অনির্দিষ্টকাল দাবিয়ে রাখা যাবে না। তাদের উচিত হবে ভিয়েতনাম থেকে শিক্ষা নেওয়া। কারণ, সেখানে পাঁচ লাখের বেশি সৈন্যকে মাত্র কিছু লোক খেয়ে ফেলছে।

বঙ্গবন্ধু এরপর সুনির্দিষ্টভাবে মন্তব্যও করেন, ‘আপনাকে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে পূর্ব পাকিস্তান দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। আমাদের তাই দক্ষিণ–পূর্ব এশীয়দের মতোই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে।’

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শেখ মুজিবের সঙ্গে মার্ক গেনের যে কথা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন মিশনকে তার অনুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছিলেন।

Total Page Visits: 474 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Shares